এবারের ফিতরা ৭০-(সত্তর) টাকা

প্রকাশিত: 4:29 PM, May 2, 2021

মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিনঃ

ঈদুল ফিতরের সময় হৈ-হুল্লুর ও ঘুরাফেরা না করার আহবান-
আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত বাংলাদেশ

এশিয়া বিখ্যাত মহান দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়্যদ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আশরাফী, শাইখুল হাদীস ও কো-চেয়ারম্যান আল্লামা হাফেয মোহাম্মদ সোলাইমান আনছারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত বাংলাদেশ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা মুফতি কাজী মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ, উপাধ্যক্ষ আল্লামা ড. মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, মুহাদ্দিস হাফেয মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আলক্বাদেরী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত এর মহাসচিব পীরে ত্বরিক্বত আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ মসিহুদ দৌলা, আন্জুমান রিচার্স সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা এম এ মান্নান, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত বাংলাদেশ এর নির্বাহী সচিব উপাধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা আবুল কাসেম মোহাম্মদ ফজলুল হক, ঢাকা মুহাম্মদপুর ক্বাদেরীয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান ফক্হি মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন আযহারী, অধ্যক্ষ আল্লামা মোহাম্মদ বদিউল আলম রেজভী, অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আযহারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জম‘আতের মুখপত্র এডভোকেট মোহাম্মদ মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার প্রমূখ এক বিবৃতিতে এবারের ফিতরা ৭০ -(সত্তর) টাকা ঘোষণা করেন। বিশেষ সতর্কতা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নিজেকে সন্দেহমুক্ত করনার্থে পরিমাণে ২ সের ৩ ছটাক আধা তোলা অথবা ২ কেজি ৫০ গ্রাম গমের আটা বা গম ফিতরা হিসাবে মাথাপিছু আদায় করা বাঞ্চনীয়। সভায় বর্তমান খোলা বাজারে উন্নত মানের ২ কেজি ৫০ গ্রাম গমের আটার মূল্য হিসাবে সর্বসাকুল্যে ফিতরা ৭০-(সত্তর) টাকা ধার্য্য করা হয়। সকল সক্ষম মুসলমান তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নাবালেগ ছেলে-মেয়ে ও বালেগা অবিবাহিতা মেয়ের ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের পূর্বে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। তবে নেহায়েত গরীব-মিস্কিন আত্বীয়-স্বজন দূরে অবস্থান করলে ঈদের নামাজের পরেও আদায় করা যাবে। যে সকল সুন্নি প্রতিষ্ঠান/মাদ্রাসা সমুহে এতিমখানা রয়েছে অথবা গরীব ছাত্রদের লেখা-পড়া ও ভরণ-পোষণের ব্যবস্থাপনা রয়েছে সে ধরনের আদর্শবান প্রতিষ্ঠানের মিসকিন ফান্ডে যাকাত ও ফিতরা প্রদান করা নেহায়ত উত্তম বলে ঘোষণা দেয়া হয়। যে সব মাদ্রাাসা/প্রতিষ্ঠানে এতিমখানা ও গরীব-মিসকিনের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা নাই, সে সব প্রতিষ্ঠানে যাকাত / ফিতরা প্রদান করলে শরীয়ত মোতাবেক আদায় হবে না মর্মে ফয়সালা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, প্রবাসী ঈমানদার নর-নারীর প্রবাসে/বিদেশে ফিতরা আদায় করলে সেদেশের মুদ্রা হিসেবে ফিত্রা আদায় করবে আর তাদের পক্ষে বাংলাদেশে ফিতরা আদায় করা হলে বাংলাদেশের টাকার হিসেবে ফিতরা আদায় করতে হবে।
উপরোক্ত দেশ-বরেণ্য প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম সারা বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও ঢাকা রাজধানীসহ অনেক জেলা উপজেলায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এ কঠিন দুর্যোগময় মুহুর্তে দেশ-জাতি ও স্বীয় জীবন রক্ষার্থে আসন্ন ঈদুল ফিতরের সময় বিগত বছরের ঈদের ন্যায় হৈ-হুল্লুর বা ঘুরা-ফেরা না করার এবং সতর্ক ও সাবধান থাকার জন্য যুবক-যুবতীসহ সকল দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। বিবৃতিতে বর্তমান মহামারি করোনা পরিস্থিতির দরূণ পবিত্র শবেক্বদর, জুমাতুল বিদা ও ঈদুল ফিতরের জমাতে অল্প বয়সের নাবালেগ ছেলে, বেশী বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা যেন মসজিদে না আসে সেদিকে পরিবারের কর্তা, এলাকা ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের লক্ষ্য রাখার অনুরোধ করা হয়। সাথে সাথে প্রত্যেক মসজিদের ইমাম ও খতিব সাহেবানকে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল ক্বদর, জুমাতুল বিদা ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামায শেষে এ মহামারি হতে দেশবাসীসহ সারা বিশ্বেবাসীর নেজাত ও মুক্তির জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে আন্তরিকতার সাথে দোয়া মুনাজাত করার আহবান জানানো হয়।