১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও শহীদগণের নাম

প্রকাশিত: 12:25 AM, April 30, 2021

১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও শহীদগণের নাম

অধ্যক্ষ মুফতি আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরি
অধ্যক্ষ –
জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা, চট্টগ্রাম।

আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম করুণাধার ও অসীম দয়ালু। অজস্র দরুদ ও সালাম সর্বকালের সর্বযুগের অতুলনীয় মহামানব উভয় জগতের বাদশা হুজুর পুরনুর প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্ততফা আহমদ মোজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে পবিত্র মাহে রমজানে। সাহাবীগণ রোজা রেখে এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল।

মূলত মক্কার কুরাইশদের শত্রুতা, কাফেরদের বহির্বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা, দস্যুবৃত্তি ও লুটতরাজ আর ইহুদিদের বিশ্বসঘাতকতা, মদিনার মুনাফিকদের চক্রান্ত, বাতিল অপশক্তি আবু জাহেল, ওতবা, শাইবা, অলীদ ইবনে মুগীরা ও উমাইয়া ইবনে খলফ প্রমুখের ইসলাম ও মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে মদিনা অভিমুখে যাত্রা ইত্যাদি এবং সর্বোপরি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ার বুক থেকে সরিয়ে দিতে যে ষড়যন্ত্র করেছিল ‘ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ’ সংঘটিত হওয়ার এসব মূল কারণ।

প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী ২য় হিজরি ১৭ রমযানুল মোবারক বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
মহানবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর কুরাইশদের গতিরোধ করার লক্ষ্যে ঈমানী বলে বলীয়ান মাত্র ৩১৩ জন অপ্রস্তুত প্রায় নিরস্ত্র সাহাবীদের নিয়ে মদিনা হতে রওনা হয়ে মদিনার মধ্যবর্তী বদর নামক উপত্যকায় শিবির স্থাপন করেন।

কুরাইশদের প্রায় সহস্ররাধিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত, একশ অশ্বরোহি, ৭০০ উষ্ট্রারোহি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন কুরাইশ নেতা আবু জাহেল।

সম্মুখ যুদ্ধে মহানবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বাধীন বাহিনী কুরাইশ বাহিনীকে অপদস্ত ও পরাজিত করে মহান আল্লাহর সাহায্যে বিজয় লাভ করেন। এ যুদ্ধে উতবা, শাইবা, আবু জাহেল ও রবিয়াসহ কাফিরদের ৭০ জন বড় বড় নেতা নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দি হয়।
এবং পক্ষান্তরে মুসলমানদের ১৪ মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন। মহান আল্লাহ্ এ যুদ্ধে আসমানী জগতের নূরানী ফেরেশতা দিয়ে মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করেন।

এইদিকে ইংঙ্গিত করে পবিত্র ক্বোরআনে মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- এবং নিশ্চয় আল্লাহ্ বদরের যুদ্ধে তোমাদেরকে (মুসলিম বাহিনীকে) সাহায্য করেছেন যখন তোমরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলে। (সুরা আলে ইমরান-১৩৩-১৩৪ )

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। যখন, হে মাহবুব! (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আপনি মুসলমানদেরকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য কি একথা যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে সাহায্য করবেন তিন হাজার ফেরেশতা অবতীর্ণ করে।
[সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১২৩, ১২৪]

এই আয়াতের তাফসীরে রয়েছে, মহান আল্লাহ্ তা‘আলা বদর যুদ্ধে প্রথমে তিন হাজার এবং পরে আরো দু’হাজার সর্বমোট পাঁচ হাজার ফেরেশতা অবতরণ করে যুদ্ধের ময়দানে মুসলমানদের সাহায্য করেন। ফলে মুসলমানরা চুড়ান্ত বিজয় লাভ করেন।

এ পবিত্র মহান যুদ্ধে শাহাদাত বরণ কারী ১৪ জন মুসলিম মুজাহিদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন মুহাজির আর ৮ জন ছিলেন আনসার সাহাবী।

তাঁদের নাম হচ্ছে-
১. হযরত ওবায়দা ইবনে হারিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
২. হযরত ওমায়ের ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৩. হযরত যুশ শিমালাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৪. হযরত আকিল ইবনে বুকাইল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৫.হযরত মাহজা ইবনে সালেহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৬. হযরত সাফওয়ান ইবনে বায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৭. হযরত মুবাশির ইবনে আবদুল মুনযির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৮. হযরত সাদ ইবনে খায়সামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
৯. হযরত ওমায়র ইবনে হুমাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
১০. হযরত ইয়াযিদ ইবনে হারিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
১১. হযরত রাফি ইবনে মুয়াল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
১২. হযরত হারিছা ইবনে সুরকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু,
১৩. হযরত আওফ ইবনে হারিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং ১৪. হযরত মুওয়াবিয়া ইবনে হারিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আনহুম।

মহান আল্লাহ তায়ালা মাহে রমজান ও বদরী শহীদ সাহাবীগণের উসিলায় মহামারী করোনা ভাইরাস সহ যাবতীয় বালা-মসিবত হতে হেফাজত করুক। আমিন

তথ্যসূত্রঃ
[আল্ ক্বোরআন: সূরা আলে ইমরান, সহীহ বুখারী শরীফ: কিতাবুল মাগাজী, আর রাহীকুল মাখতুম: বদরের যুদ্ধ অধ্যায়, সিরতে ইবনে হিশাম: বদর অধ্যায়, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া কৃত: প্রখ্যাত মুফাস্সির ও ইতিহাসবেত্তা ইমাম ইবনে কাছির রাহ. ইত্যাদি।