আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভি.পি ছিলেন বাংলাদেশের সৈয়দ মো. হাসান

প্রকাশিত: 7:48 PM, April 29, 2021

মুহাম্মদ নুর কাদেরঃ

যোগ্যতা এবং দক্ষতার বিবেচনায় ২০১০ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে জগৎ বিখ্যাত ইসলামি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্টান আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করে সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান। প্রতিষ্টানের নিয়মিত ছাত্র হিসাবে ওনার আচার-ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ভালবাসায় কাছে টেনে নেন অত্র প্রতিষ্টানের দেশি-বিদেশি সর্ব মহলের শিক্ষার্থীরা। সবার ভালবাসায় সিক্ত হয়ে প্রতিদান স্বরুপ সবার মাঝে নিজেকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা নিয়ে কৃতিত্বের সাথে এগোতে লাগলেন হাসান| মিশরে যাওয়ার বছর খানিকের মধ্যে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে ভাবতে শুরু করলেন হাসান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা এবং সংকট দেখে হতাশ হন তিনি। অল্প সময়ে নিজেকে দাঁড় করিয়ে নেন ভিন্ন একটি অবস্থানে, যেখানে শুধু শিক্ষার্থী নয় বরং অধিকাংশ শিক্ষকের কাছেও হাসান পরিচিত হয়ে উঠেন সৈয়দ নামে| ছাত্র হতাশার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বের মন স্থির করেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিড়ে হাসান হোক বাংলাদেশী তারপরও নিজের উপর বিশ্বাস রেখে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ এবং উৎসাহে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভি.পি পদে অংশ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিলেন। সময়টা ছিলো ২০১৩ সাল| অত্র সংসদের নাম ছিলো, “পার্লামেন্ট অফ ফরেনার স্টুডেন্ট ইন আল-আযহার” যেটি ছিলো আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত| শুধু তাই নয় এই সংসদ তদারকিতে থাকেন, উক্ত প্রতিষ্টানের গ্র্যান্ড ঈমাম সহ বিজ্ঞ পরিচালনা পরিষদ। সুষ্টু ধারায় নেতৃত্বের ইচ্ছা সেই ছোট বেলা থেকেই লালন করে আসছিলো| তার এই দৃষ্টান্তের কথা দাবি করেন হাসানের বন্ধু স্বজন’রা| পরিশেষে ভি.পি পদে নির্বাচন করেন তিনি, যেখানে বিশ্বের ১০৪ টি দেশের হয়ে প্রায় ৪১০০০ হাজার শিক্ষার্থী গণতান্ত্রিক ভাবে ভোটে অংশ গ্রহন করে| ঐ নির্বাচনে অধিকাংশ ভোট পেয়ে ভি.পি পদে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেন বাংলাদেশের কৃতি সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান|

ভি.পি থাকা কালীন সময়ে হাসানের স্বার্থক এবং সফলতার গুঞ্জন শুনা যায় বিভিন্ন জনের মুখ থেকে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও জানা যায়। নেতৃত্বের মুগ্ধতায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন আল-আযহারের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কাছ থেকে।

ছাত্র সংসদ পরিচালনা পরিষদের ২০১৩-২০১৪ ইং তথা এক বছর মেয়াদ শেষ হয়| নতুন নির্বাচন দেওয়ার আগ মুহূর্তে উক্ত প্রতিষ্টানের গ্র্যান্ড ঈমাম ড. শায়খ আহমদ আল-তায়িব সৈয়দ হাসানকে পুনরায় পার্লামেন্টের “ভাইস-প্রেসিডেন্ট” পদে অক্ষুণ্ণ রেখে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের ঘোষণা দেন| ঐ বছরেও সুন্দর এবং সু-চারু রুপে কৃতিত্বের সাথে ছাত্র সংসদ চালিয়ে নিচ্ছেন হাসান।কেঁটে গেলো আরো ছয় মাস। যখন মনে হলো সংসদ দায়িত্ব পালনে নিজের লেখা পড়ার ব্যাঘাত ঘটছে ঠিক তখনই দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার চিন্তাটা মাথায় আনেন তিনি। কয়েক দিন যেতেই পদ বাতিল ছেয়ে প্রতিষ্টানের উর্ধ্বতন মহলে দরখাস্ত করে। দায়িত্বশীলরা দরখাস্ত সাদরে গ্রহন করেন| সপ্তাহ্ খানিকের মধ্যেই হাসানকে সু-সম্মানে উক্ত পদ থেকে অব্যহতি করা হয়। কৃতিত্বের সাথে পড়া লিখা শেষ করে পরিবর্তী সময়ে দেশে ফিরেন। এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অপ মালায়া, কুয়ালালামপুর, মালেশিয়ায় এম.ফিল গবেষক হিসাবে গবেষণায় রত আছেন। অনেকের দাবি বিদেশীয় ছাত্র সংসদে আমাদের দেশের হয়ে ভি.পি থাকা’টা গর্বের বিষয়| সৈয়দ মুহাম্মদ হাসানের সাথে কথা বলে পরিচয় মেলে, ওনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা অছিয়র রহমানের বড় ছেলে।