কোরআন-হাদীসের আলোকে মহিমান্বিত শবে বরাআতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

প্রকাশিত: 4:26 PM, March 29, 2021

কোরআন-হাদীসের আলোকে মহিমান্বিত শবে বরাআতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন কাদেরী

আল্লাহর নাম আরম্ভ করছি, যিনি পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু। অসংখ্য দরুদ ও সালাম দু’জাহানের বাদশা প্রিয়নবী হুজুর পুরনূর হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। যার নূরাণী কদমের ওসীলায় শবে মেরাজ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে কদর, শবে বরাতের মত মহিমাণ্ববিত রজনী পেয়েছি।
মাহে শাবান আরবী হিজরী সনের অষ্টম (৮ম) মাস। আর এই মাসেই রয়েছে বছরের শ্রেষ্টতম পঞ্চম রজনীর অন্যতম লাইলাতুল বরাআত বা শবে বরাআত।
 পবিত্র হাদীসে পাকে যার পরিচয় “লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান” অর্থাৎ শাবান মাসের চৌদ্দতম দিবাগত রজনী শবে বরাত। আর শাবান আরবী শব্দের অক্ষর পাঁচটি: ইসলামী মনীষা ও দর্শনিকগণ এই ৫টি অক্ষর  তথা ১. শীন ২. আইন ৩. বাআ ৪. আলিফ  ও ৫. নুন এর আক্ষরিক অর্থ ও তাৎপর্য তুলে ধরেছেন এভাবে (১) শীন: দ্বারা শরীফ বা মর্যাদা অর্থ নিয়েছেন। অর্থাৎ এ মাস অতীব মর্যাদাপূর্ণ। (২) আইন: দ্বারা উলুবু তথা সু-উচ্চ উন্ননতির
 বাহন অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে পরকালীন ও আধ্যত্মিক উন্নতির উচ্চ শিখর অর্জন করতে সক্ষম হয়/হ‘বে। (৩) বা দ্বারা: বিররু অর্থ পূর্ণতা ও নেক আমল অর্থাৎ এ মাস পরিপূর্ণ নেক আমল বা পূণ্যময় কাজ করা করার সুযোগ রয়েছে। (৪) আলিফ : দ্বারা ‘উলফত’ অর্থ ভালেবাসা অর্থাৎ আল্লাহ ও বান্দার উভয়ের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে/হয়। (৫) নুন: দ্বারা নুর বা আলো, অর্থাৎ এমাসে আল্লাহর দয়া, রহমত ও কল্যাণ এবং মহানবীর (দ.) ওপর দরুদ-সালাম পাঠের মাধ্যমে বান্দার  অন্তরে সৃষ্ট নূর বা আলো ধারণে সক্ষম হয়। (গুনিয়াতুত তালেবীন- ৩৬৫ প.)
এই রাতের আরও ১২টি নাম পরিলক্ষিত হলেও মুসলমানদের নিকট এই রাত দু’নামে বেশি পরিচিত (১) লাইলাতুল বরাআত (২) শবে বরাআত।  “লাইল” আরবী এবং শবে ফার্সী শব্দ, সুতরাং শব্দদ্বয়ের অর্থ রাত বা রজনী।
আর “বরাআত” শব্দের প্রকৃত অর্থ পৃথক হওয়া, দূর হওয়া ইত্যাদি। অর্থ দাড়ায়- পৃথক হওয়ার রাত বা দূর হওয়ার রজনী। একে আবার মানব জাতির ভাগ্য নির্ধারণী বা বাজেট বরাদ্দের রাতও বলা হয়। যেহেতু এই মহান রাতে মানুষের জীবনের সামনের এক বছরের বয়স, রিজিক এবং কে জম্ম গ্রহণ করবে আর কে মত্যু বরণ করবে আল্লাহর তায়ালার নির্দেশে নির্ধারণ করা হয় বিধায় শাবান মাসের চৌদ্দ (১৪ তম দিবাগত) রজনীকে শবে বরাআত বা বন্টনের রজনী বলা হয়।  (গুনিয়াতুত তালবীন)
মহাগ্রন্থ আল কুরআরেও এই রাতের প্রতি নির্দেশ করে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- ইনা আনজালনাহু ফি লাইলাতিম মুবারাকা অর্থাৎ “নিশ্চয় আমি (কুরআন মজিদকে) নাজিল করেছি বরকতময় রাতে। (সূরা দুখান,৩নং আয়াত)
আলোচ্য আয়াতে  ‘লাইলাতিম মুবারকা’র তাফসীর মুফাস্সিরগণ যেমন সাহাবীয়ে রাসূল প্রখ্যাত মুফাস্সির আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বি.), হযরত ইকরামা (রাদ্বি.), হযরত আবু হুরাইরা (রাদ্বি.) সহ অনকেই বলেছেন, ‘লাইলাতিম মুবারাকা’ দ্বারা চৌদ্দই শাবান দিবাগত রাত বা শবে বরাআতকে বুঝানো হয়েছে। তাফসীরে দুররে মনসুরে উল্লেখ রয়েছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্ববাস (রাদ্বি.) কুরআনরের শপথ করে বলেছেন “লাইলাতুম মুবারকা” হলো মাহে শাবানের চৌদ্দতম দিবাগত রাত্রি। (খন্ড-৭ম, পৃ:৪০১)
 তাফসীরে কাশফুল আসরার -গ্রন্থে
আল্লামা হযরত খাজা আনসারী (রাহ:) বলেছেন “এই রজনীতে খায়র-বরকত, রহমত ও কাল্যাণে পরিপূর্ণ থাকে,  বান্দা যা প্রার্থনা করে তা দেয়া হয়, বান্দার প্রার্থনা-দোয়া কবুল করা হয়, সারা রাত সকল আসমানের রহমতের দরজা সমূহ এবং জান্নাতর দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় বলে-এই রাতকে “লাইলাতুম মুবারাকা বলা হয়” (৭ম খন্ড)।
 আর হাদিসে পাকে রাসূল মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “নিসফে শাবান” শব্দদ্বয় উল্লেখ করে বস্তুত শবে বরাতকে সম্বোধন/ইঙ্গিত করেছেন।
অর্থাৎ:- প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আনস ইবনে মালেক (রাদ্বি) হতে বর্ণিত  তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- “শাবান মাসের পরবর্তী মাস রমযানের জন্য অসংখ্য কল্যাণ ও বরকত হাসিল তথা অর্জনের (আল্লাহর কুদরতের) দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় এজন্য শাবানকে শাবান করে নামকরণ করা হয়েছে। আর রমজানকে রমজান করে নাম রাখার কারণ হল এই মাস মানুষের গুনাহ সমূহ জ্বালিয়ে ধংস করা হয়।
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল হক মুহাদ্দিস দহলভী (রাহ:) তাঁর লিখিত “মা সাবাতা বিস-সুনাহ” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন- “লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতময় রজনী দ্বারা শবে বরাআত নেয়া-ই উত্তম। তারপরও কেউ যদি তর্ক করে বলেন- তা দ্বারা শবে ক্বদরকে বুঝানো হয়েছে, তবুও অসুবিধা নাই। কারণ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই এই মহান রজনীর ফজিলত তথা গুরুত্ব বর্ণনা করায় এই রজনীর মার্যাাদাকে শঠতার চোখে খাটো করে দেখা কোন প্রকৃত মুমিন-ইমানদার মুসলিমের উচিত নয় এবং বিদ্রুপকারীদের অস্বীকার করার জো-নাই।
বিশেষত;রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শাবান মাসকে নিজর মাস বলে ঘোষণা করেছেন। আর এই মাস আল্লাহর মাস “রজব” এবং আল্লাহর বান্দার ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের মাস “রমযানের মধ্যবর্তী হওয়ায় আলাদা এক অনন্য ফজিলত ও মর্যাদা প্রতীয়মান।
শবে বরাআতের ফজিলতঃ
শবে বরাআতের ফজিলত ও তাৎপর্য সম্পর্কে
বহু হাদীসে পাক রয়েছে। তন্মধ্যে এরাতে বান্দার গুনাহ ক্ষমা ও প্রার্থনা কবুল হয়, কল্যাণ ও রহমতের দ্বার/দরজা সমূহ বান্দার জন্য খুলে দেয়া হয় ইত্যাদি।
 এরাতে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রদান ও দোয়া কবুল হওয়া সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস যা হযরত ওসমান ইবন আবুল আস (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রজনীতে প্রথম আসমানে একজন ফেরেশতা আহ্বান /ডাকতে থাকেন যে- কেউ কি কোন ফরিয়াদ বা প্রার্থনা করার আছো? করলে তা কবুল বা গ্রহণ করা হবে! ফলে যা চাওয়া হবে তাই প্রদান করা হবে।  সুবহানআল্লাহ (সুনান বায়হাকী)
আর কল্যাণ ও রহমত সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- হযরত মা আয়শা (রাদ্বি:) বলেন- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন- সারা বছরের মাত্র চারটি রাতে আল্লাহ পাক কল্যাণের দরজা সমূহ খুলে দেন। তা হলো ১/ ‘কুরবানী ঈদের রাত, ২/ আরফার রাত (৮ই জিলহজ্ব দিবাগত রাত), ৩/ ঈদুল ফিতরের রাত এবং ৪/শাবান মাসের চৌদ্দতম রজনী, যে রজনীতে আগামী একবছরে যারা মৃত্যু বরণ করবে তাদের তালিকা, বান্দার রিজিক নির্ধারিত করা এবং কারা হজ্জ করবে, কারা বিয়ে করবে তাদের তালিকাও তৈরি করা হয়। (সুনান ইবনে মাজাহ শরীফ,পৃষ্টা নং ১০০)
নাজহাতুল মাজালিস নামক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে- এ রাতে আল্লাহ জিব্রাইল (আ.) কে বেহশতে প্রেরণ করেন এবং তিনি বেহশত কে সুসজ্জিত হতে নির্দশ দেন। আর আল্লাহ এই রাতে আকাশের তারকা এবং জমিনের দিন-রাতের সংখ্যানুযায়ী অগণিত বান্দাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করেন।
অপর একটি হাদীসে উল্লেখ রয়েছে- এই রাতে মহান রাবুল আলামিন অসংখ্য রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেন। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বি:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- এই রাতে জিব্রাঈল আমার কাছে আসেন এবং বলেন হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আকাশের দিকে আপনার মাথা মুবারক উঠান, আমি বলি এ রাতে কি হয়েছে? জিব্রাঈল (আ.) বলেন- এ রাতে আল্লাহ তাঁর রহমতের তিনশ (৩০০) দরজা খুলে দেন এবং অসংখ্য গুনাহগার কে ক্ষমা করেন।
 যাঁদের জন্য সুসংবাদঃ
হাদীসে পাকে রয়েছে- ‘জিব্রাঈল (আ.) রাতের এক চতুর্থাংশ এসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন- হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার মাথা মুবারাক উঠান আমি উঠিয়ে দেখি বেহশতের আট (৮) দরজাই খুলে দেয়া হয়েছে। প্রথম দরজা থেকে অষ্টম দরজা পর্যন্ত আট(৮) জন ফেরশতা ৮টি সুসংবাদ প্রদান করেন। যথাক্রমে ১. যে রুকু করবে, ২. যে সিজদা করবে, ৩. যারা দোয়া-মুনাজাত করবে, ৪. যারা আল্লাহর জিকির করবে, ৫. যারা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদবে(গুনাহ মাফ চাইবে), ৬. যারা আল্লাহর সামনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করবে তাদের জন্য সুসংবাদ, ৭. কোন প্রার্থী আছ কি? যা চাইবে দেয়া হবে, ৮. গুনাহ ক্ষমা প্রার্থী আছো কি? তাকে ক্ষমা করা হবে। আর রহমত ও জান্নাতের দরজা সমূহ ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফেল বনু ক্বলব গাত্রের অসংখ্য বকরীর লোম-সম-সংখ্যক জাহান্নামী বান্দাকে আল্লাহ মুক্তি দেবেন।
যারা ক্ষমা ও মুক্তি পাবে নাঃ
এতো রমহতের ফলেও যারা গুনাহ হতে ক্ষমা পাবেনা সে হতভাগ্যরা হলো- ১/ শিরককারী, ২/যাদুকর, ৩/ গনক, ৪/ ব্যভিচারক, ৫/ সুদখোর, ৬/ মদপানকারী, ৭/ মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, ৭/ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর এবং ৮/মুসলিম ভাইয়ের সাথে ঝগড়া-বিবাধকারী।
ইসলামের ১ম খলিফা, খলিফাতুর রসুল (দঃ) হযরত আবু সিদ্দিক (রাদ্বি:) বলেন- আল্লাহ এই রাতে মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া অন্য সকল গুনাগারদের ক্ষমা করেন (বায়হাকী শরীফ)।
শবে বরাআতের আমলসমূহঃ
এই রাতে ও পরদিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় আমল রয়েছে। তন্মধ্যে নফল নামাজ, নফর রোজা, নফল ইবাদত, কুরাআন তেলাওয়াত, কবর যিয়ারত, দোয়া-দরুদ,  জিকির-আজকার, দান-খায়রাত করা ইত্যাদি।
নফল নামাজ আদায়ঃ
নফল সালাত/নামাজ আদায় শবে বরাআতের অন্যতম আমল তৎমধ্যে -সালাতুস তাসবির নামায পড়তে পারেন। শবে বারাআতের নামায নির্ধারিত না থাকায় যত রাকাত সম্ভব ততবেশি নফল সালাত/নামাজ আদায় করা যায় এবং  তত বেশি সওয়াব।
তবে কমপক্ষে বার(১২) রাকাআত নামায আদায় সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, এ রাতে (১২) বার রাকাআত নফল নামায আদায় করবে এর প্রতি রাকাআতে ১ বার সূরা ফাতিহার সাথে ১০ বার সূরা ইখলাছ পড়বে। এর বদৌলতে আল্লা­হ তাঁর জীবনের গুনাহ ক্ষমা করে বরকত দান করবেন (নাজহাতুল মাজালিস)।
নফল রোজা রাখাঃ
এরাতে ও অন্য রাতে সাহরী খেয়ে নফল রোজাও আদায়/রাখা যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাস অধিক রোজা রাখতেন। তিনি বলেন- যে এরাতে নামায ও ইবাদত বান্দেগীতে কাটাবে, দিনে রোজা রাখবে। তবে রোজা কমপক্ষে দুটি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ১৪ ও ১৫ তারিখ, যেহতু আহলে কিতাবগণ একটি রোজা রাখার নিয়ম চালু করেছিল। উল্লেখ্য যে, শাবানের ১৫ তারিখ তথা শবে বরাতে -যে ব্যক্তি রোজা রাখবে আল্লাহ তার জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে জাহান্নামের আগুনও স্পর্শ করবে না।
কুরআন তেলাওয়াত অনন্য ইবাদতঃ
এ রাতে কুরআন তিলাওয়াত অন্যতম প্রধান আমল, যেহেতু  কুরআন নাজিল হওয়ায় এই রাতের এতোই মর্যাদা। তাই যত বেশি সম্ভব কুরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াব ও পূণ্যময় ।
কবর জিয়ারতঃ
এরাতে শরীয়ত সম্মত পন্থায় মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পীর-আউলিয়া ও বুজর্গদের কবর জিয়ারত করা অতি সওয়াবের ও প্রিয়নবীর সুন্নাত।
কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতের গভীরে নিদ্রাত্যাগ করে জান্নাতুল বাকিতে দাফন হওয়া সাহাবায়ে করামের কবর জিয়ারতে ছুটে গিয়ছিলেন যার বর্ণনা হাদীসে পাকে পাওয়া যায়।
যে দোয়া বেশিবেশি পড়বেনঃ
শবে বরাআত ও শবে ক্বদরর রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাহাতুল মুমেনীন, হযরত মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কে যে দোয়াটি বেশি পড়তে বলেছেন তা হলো “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুবুন কারীমুন রাহীমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা-য়াফা আনি ইয়া গাফুর, ইয়া গাফুর”।
প্রিয়নবীর ওপর দরুদ পড়াঃ
দোয়া পাঠের সাথে যত বেশি সম্ভব আল্লাহ তা’আলার জিকির করা ও নবীজীর প্রতি দরুদ-সালাম পড়া। যে কোন দরুদ শরীফ পাঠ করতে পারেন। যেমন -আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যেদিনা মুহাম্মদিও ওয়া আলা-আলে স্যাইয়্যেদিনা মুহাম্মদিও ওয়াবারিক ওয়াসাল্লিম।
দান-সদক্বাঃ
তাছাড়া দান-খায়রাত করা,সমাজে গরীব-অসহায়দের খাদ্য প্রদান,আর্থিক সাহায্য ইত্যাদি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
আমাদের সমাজে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আশুরা, শবে মেরাজ, ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর, মাহে রমজান,শবে কদর এসব ইসলামী সংস্ককৃতিতে মুসলমানদের অন্তরে সত্য দ্বীনি তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মান-মানসিকতা সষ্টিতে অনন্য, অনবদ্য ও প্রত্যক্ষ জোরালো ভূমিকা রেখে আসছে।আলহামদুলিল্লাহ।
 তবে কিছু নাম ও লেবাসধারী মুসলমান-ফেরশতার মত কথা বলে, শয়তানের মত ধোঁকা দিয়ে এসব বরকতময় রাতে-দিনে বিশেষ ইবাদত করাকে কুরআন-হাদীসে নাই বলে তা পালন না করার অপপ্রচার, অপপ্রয়াস ও অপচেষ্টা চালায়। সমাজে তাদেরকে চিনে রাখবেন-তাদের থেকে দূরে থাকবেন। কারণ তারা সরল প্রান মুসলমানকে ইবাদত-বন্দেগী করা থেকে বিরত রাখা মুসলমানের বেশভুশে মানুষরুপী শয়তান!
তবে হ্যাঁ শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ হলে তা বন্ধ করে কুরআন-হাদীসের আলাকে তা পালন করা প্রয়োজন ও বাঞ্ছনীয়।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেররকে এই মহিমাণ্বিত রজনীর গুরুত্ব-মর্যাদা অনুধাবন করার তাওফিক দান করুক। বিভ্রান্ত না হয়ে তা পালনের মধ্য দিয়ে এই রাতের বরকত-ফজিলত ও শরাফত(সম্মান) আমাদেরকে দান করুক। আমিন
লেখক- মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন কাদেরী
উপাধ্যক্ষ,
মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দরসে নেযামী, মোহরা, চট্টগ্রাম।