ইসলামী ফ্রন্টের ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

প্রকাশিত: 7:35 PM, November 1, 2020

রাজধানী প্রতিনিধিঃ

ফ্রান্স সরকারের বর্তমান উগ্র অবস্থান বিশ্বে শান্তি বিনষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহানবী (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ফ্রান্স মুসলিম উম্মাহ’র হ্নদয়ে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। যে মহানবী (সা.) মুসলমানদের নিকট প্রাণের চেয়ে প্রিয়, তাঁর অবমাননা বিশ্ব মুসলমান কখনও মেনে নিতে পারেনা। ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে মহানবী (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার উদ্যোগে ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন এসব কথা বলেন। দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে শত শত নেতাকর্মী ও মুসলিম জনতা অংশগ্রহণ করেন।
দপ্তর সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাকিমের সঞ্চালনায় আল্লামা এমএ মতিন বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভিন্ম ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা কোন সভ্য জাতির কাজ হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সীমারেখা থাকা উচিত। আপনার মতামত ততক্ষণ স্বাধীন, যতক্ষণ তা অন্যকে আঘাত করে না। সকলকে অন্যদের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। আল্লামা এম এ মতিন আরও বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সরকারকে তাদের অবস্থান পরিষ্কারে অবিলম্বে ফ্রান্সের নিন্দনীয় কর্মকা-ের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে। তিনি ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে ফরাসি দূতাবাস বন্ধ রাখতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সারাদেশের মুসলমান ঈমানী দাবিতে রাজপথে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
আল্লামা এম এ মতিনের নেতৃত্বে ঘেরাও কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতা প্রিন্সিপাল আবু জাফর মুঈনুদ্দীন, কাজী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন সিদ্দীকি আশরাফী, অ্যাডভোকেট কাজী ইসলাম উদ্দীন দুলাল, কাজী মুবারক হোসেন ফরায়েজী, প্রিন্সিপাল আল্লামা আব্দুস সাত্তার, মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী, গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক, ডাঃ এস এম সরওয়ার, মুহাম্মদ ইমরান হুসাইন তুষার, কাউসার আহমাদ রুবেল, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, প্রিন্সিপাল আবু নাসের মুসা, মুহাম্মদ নূরুল হক চিশতী, মাওলানা বদরুল আলম কাদেরী, লোকমান মিয়াজী, আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান, মাওলানা ফরহাদুল ইসলাম বুলবুলি, কাজী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন নুরী, হাফেজ মুহাম্মদ ওমর ফারুক, মাওলানা মারুফ বিল্লাহ আশেকী ও হাজী মুহাম্মদ রুবেল। বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব আল্লামা এম এ মতিন পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে, ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের অপরাধে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশে অবস্থিত ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ রাখতে হবে, ফ্রান্সে নবী (সা.) এর অবমাননার প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে,মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ফরাসি পণ্য বর্জনে সরকারিভাবে ঘোষণা করতে হবে, ধর্ম অবমাননার মাধ্যমে বিশ্বে সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা ফ্রান্স সরকারে বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবস্থান পরিস্কার করতে হবে এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে ফ্রান্সের মুসলমানদের উপর দমন পীড়ন বন্ধ ও মসজিদসমূহ খুলে দিতে ওআইসি, বিশ্বমুসলিম নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে আগত জনতার হাতের ফেস্টুন ও মুখে শ্লোগান ছিলো প্রিয়নবীর অপমান সইবেনা মুসলমান, ফরাসীপণ্য বয়কট করো-করতে হবে, অলি-আল্লাহর বাংলায়-নবীদ্রোহীদের ঠাঁই নাই, বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়ো-ফ্রান্সের বিরুদ্ধেপ প্রতিবাদ করো। জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ শেষে ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে মিছিলটি তোপখানা, পল্টন অতিক্রম করে কাকরাইল মোড়ে পুলিশের বাঁধার মুখে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে ঘেরাও কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।