আ’লীগের দু’সময়ের কান্ডারী আসলামকে এখনো চায় এলাকাবাসী

প্রকাশিত: 11:18 PM, August 13, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর যোগ্য উত্তরসুরি ৩৯ নং ওয়ার্ড থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসলামকে এখনো চায় এলাকাবাসী। এক সময়কার দলের দুঃসময়ে নিজের জীবন বাঁজি রেখে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তিনি। একাধিকবার মালমাল আসামী ও বার বার কারাবরণ করার পরেও বঙ্গবন্ধুপ্রেমী সাবেক কাউন্সিলর মো. আসলামের জন্য রয়েছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের ভালবাসা। সকলের কাছে মো. আসলাম মানেই একজন জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা। তবে বর্তমান সরকারের আমলে মো. আসলামের মত ত্যাগী নেতারা যোগ্য মূল্যায়ন না পেয়ে হতাশার অনলকুন্ডে দিনের পর দিন পার করছে। মো. আসলামকে চসিক প্রশাসকের সহায়ক পরিষদের সদস্য বা কমিটিতে দেখতে ৩৯ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ বর্তমান সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।
১৯৬৬ সালে এক দরিদ্র পরিবারে আসলামের জন্ম। বঙ্গবন্ধু আদর্শকে বুকে ধারণ করে ১৯৮২ সালে আওয়ামী রাজনীতির সাথে নিজেকে যুক্ত করেন তিনি। লেখাপড়ার জন্য ছাত্র রাজনীতি করতে পারেনি। তবে দক্ষিণ হালিশহর ৩৯নং ওয়ার্ডের বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের একজন কর্মী ছিলেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গণ-আন্দোলনে অংশ গ্রহন করার কারণে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাকে ১৩টি মামলা কারাবরণ করতে হয়েছে ।
১৯৯২ সালে ৩৯নং ওয়ার্ডের আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনে তিনি ৩৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হোন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে এলাকার ১৭ যুবক নিহত ও ৫০০ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ করেন তিনি। তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর পাশে থেকে তিনি গ্রেপ্তারকৃত ৫০০ জনকে নৌ-ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে তাদের স্ব-স্ব বাড়িঘরে পৌঁছে দেন।
১৯৯৪ সালে আলহাজ¦ এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়ে ৩৯নং ওয়ার্ডের আওয়ামী যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯৬ সালে অসহযোগ আন্দোলনে এ. বি. এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৭ দিন চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ রাখতে গিয়ে মো.আসলাম জীবন বাঁজি রেখে পতেঙ্গা থানা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি মাখন লাল মহাজনসহ ১৭টি মাইক্রোসহ অস্ত্রধারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরেন সেই গুলিবর্ষণে চট্টগ্রামের আওয়ামী পরিবারের ২৮ জন কর্মী নিহত হয়েছিলেন।
১৯৯৬ ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করতে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশ বাস্তবায়নে বিএনপি’র কোন মন্ত্রী, এমপির চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করতে সিমেন্ট ক্রসিং নৌ-ঘাঁটির সামনে মো.আসলামের নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আফসারুল আমিনের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে বিমান ল্যান্ডিং পয়েন্টে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আসলাম সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।
১৯৯৮ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে মো. আসলাম সদস্য নির্বাচিত হবার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক করে যে কমিটি ঘোষিত হয় তাতে আসলামকে কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত করা হয়। ২০০০ সালে মো. আসলাম পতেঙ্গা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে ২০০০ সালের ৩ জানুয়ারি ওয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ মো.আসলামকে সর্বপ্রথম চসিক ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদান দিলে মো. আসলাম বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়।
২০০২ সালে অপারেশন ক্লিন হাট নামে সেনাবাহিনী দিয়ে দেশব্যাপী অপারেশন শুরু করে। সেই অপারেশনে চট্টগ্রামের সর্ব প্রথম মো. আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ২৬ বার রিমান্ড চাওয়া হয়। মো. আসলামের বিরুদ্ধে ৪টি পেন্ডিং হত্যা মামলাসহ মোট ২৬টি মামলা করা হয়। কারাবরণ করার পরেও জামিন এসে তাকে মোট ১২ বার গ্রেফতার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০০৫ সালে ১৭ মে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে চসিক নির্বাচনে আবারও মো. আসলাম বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল বিএনপি-জামায়াতের ভাড়াটিয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডাঃ আফসারুল আমীন আসলামের পাশে দাড়ান।

সাবেক কাউন্সিলর মো.আসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা খোরশেদ আলম সুজনকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার কারণে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্রশাসকের সহায়ক পরিষদের সদস্য বা কমিটিতে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর যোগ্য উত্তরসুরি দাবি করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ভাবে যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমি তার পক্ষে কাজ করে যাব। আমি যেহেতু ৩৯ নং ওয়ার্ড থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলাম তারই ধারাবাহিকতায় এখনো এলাকাবাসী চায় আগামী ১৮০ দিনের দায়িত্বে থাকা (চসিক) প্রশাসকের সহায়ক পরিষদের সদস্য বা কমিটিতে থেকে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা,সম্ভাবনা ও উন্নয়নমূলক কর্মকার্ন্ড যেন তুলে ধরতে পারি।